নুরুজ্জামান কাফি দাবি করলেন: ধানমন্ডি ৩২ ঘটনার প্রতিশোধে পোড়ানো হয়েছে তার বাড়ি
- Update Time : ০৪:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / 201
কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি দাবি করেছেন, তার বাড়ি পোড়ানোর ঘটনার পেছনে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ঘটিত একটি ঘটনার প্রতিশোধ গ্রহণের উদ্দেশ্য ছিল। কাফি বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার রজপাড়া গ্রামে তার পোড়া বাড়ির সামনে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন। ওই সময় আবেগাপ্লুত হয়ে কাফি তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, “স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আমি জীবন ঝুঁকি নিয়ে কথা বলেছি, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমি মুখ খুলেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার বলেছিলেন, ধানমন্ডি ৩২-এ যারা আক্রমণ করেছিল, তাদের বাড়ি ও সম্পত্তি পোড়ানো হবে। ঠিক সেই কথার প্রতিশোধ নিয়েই আমার বাড়ি পোড়ানো হয়েছে।”
কাফি আরও বলেন, “আমার বাবা এবং ভাই আমার জন্য দুইবার কেঁদেছেন। একবার জুলাই আন্দোলনের সময় যখন আমি পালিয়ে গিয়েছিলাম এবং আরেকবার আজ, যখন আমার ঘর পোড়ানো হয়েছে। আজ আমি বাবার সন্তান হিসেবে লজ্জিত।”
সংবাদ সম্মেলনে কাফি সরকারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমি সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, যদি সাত দিনের মধ্যে আমার বাড়ি পুনঃনির্মাণ এবং দোষীদের গ্রেপ্তার না করা হয়, তবে আমি একাই এই পোড়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাবো। দেশের বিপ্লবী ছাত্র-জনতা আমার পাশে রয়েছে, তাদের সহায়তায় টিএসসি পর্যন্ত জ্যাম তৈরি হতে পারে। প্রয়োজনে আমি বিপ্লবী সরকারের ডাকও দেব।”
কাফি তার বক্তব্যে আরও দাবি করেন যে, সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা নেমে গেছে। “এখন ৬০ শতাংশ মানুষ সরকারের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। আমাদের আন্দোলন কখনো সরকারের কাছ থেকে কোনো সুবিধা বা উপদেষ্টার পদ চায়নি, শুধু দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও নিজের নিরাপত্তার জন্য কথা বলেছি। অথচ এখন আমার নিজের ঘর নেই!” বলেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের হাত রয়েছে। কাফি বলেন, “এই আগুন শেখ হাসিনা লাগাননি, এই আগুন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সদস্যরা লাগিয়েছে। দেশের বেশিরভাগ আওয়ামী লীগ সদস্য এখনও সক্রিয় এবং এই ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ জানাতে প্রস্তুত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের খুঁজে বের করতে সক্ষম হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে কাফির বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান (৫৯) এবং বড় ভাই নুরুল্লাহ আল মামুন (৩১) উপস্থিত ছিলেন।















