পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা: তাপমাত্রা নেমেছে ৯ ডিগ্রিতে, জনজীবন বিপর্যস্ত
- Update Time : ১১:৪৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / 112
দেশের উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই অঞ্চলে শীতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা নাগাদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ, যা শীতের তীব্রতাকে আরও বৃদ্ধি করেছে।
গত কয়েকদিন ধরে পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ১০ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল, তবে আজকের তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার কারণে শীতের প্রকোপ বাড়ে। সন্ধ্যার পর থেকেই উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় পুরো এলাকা ঢেকে যায়, ফলে দিনের সময়ও প্রচণ্ড ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সূর্যের তেজ কম থাকায় তাপমাত্রার পার্থক্যও একেবারে কমে গেছে।
শীতের তীব্রতার কারণে বিশেষত শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ ব্যাপক দুর্ভোগে পড়ছেন। ঠান্ডার কারণে অনেকেই সকালে কাজে যেতে পারছেন না, বিশেষ করে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঠান্ডার তীব্রতা খুব বেশি। এছাড়া ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, ফলে সড়ক পরিবহনও চ্যালেঞ্জের মুখে।
শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শীতজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন অনেকেই। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে দিনদিন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তাই শীত থেকে সুরক্ষা পেতে স্থানীয়রা প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শীতার্তদের সহায়তায় গরম কাপড় বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শীতের প্রভাব মোকাবেলা করতে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।















