গোয়াইনঘাটের হাটবাজারে তরমুজের সমারোহ: ভালো দামের আশায় চাষিরা
- Update Time : ০১:৫২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / 101
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার হাটবাজারে গ্রীষ্মের জনপ্রিয় ফল তরমুজের সমারোহ শুরু হয়েছে। ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের তরমুজে ভরে গেছে হাটবাজারগুলো। চাষিরা আশা করছেন, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে, আর সামনে রমজান মাস থাকায় তরমুজের চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো থাকবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সারীঘাট দক্ষিণ পাড় বাজারে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে সাজানো হয়েছে তরমুজের স্তূপ। গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকা থেকে এ তরমুজগুলো এনে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। চাষিরা বলছেন, বেশ কয়েক বছর ধরে তারা এখানে তরমুজ বিক্রি করে আসছেন। ক্রেতাদেরও ভিড় জমে প্রতিদিন। ফাল্গুন ও চৈত্রের গরমে পিপাসা মেটাতে তরমুজের চাহিদা বেড়েছে। বড় তরমুজের দাম ৫০০ টাকা পর্যন্ত, আবার ছোট তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকায়।
তরমুজ চাষি আবুল হোসেন বলেন, “তরমুজের আকৃতি ও দাম দেখে ক্রেতারা ফিরে যান না। কম করে হলেও একটি তরমুজ কিনে নেন। আগামী এক থেকে দেড় মাস এ দামেই বিক্রি হবে। এরপর মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রিও কমে যাবে।”
গোয়াইনঘাট উপজেলার কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার উপজেলার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নেই ২৯০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করা হয়েছে। উপজেলার হাওর, বিল, নদীর তীর ও ধানক্ষেতের মাঠে ব্যাপকভাবে তরমুজ চাষ করেছেন কৃষকরা। প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে তরমুজের চাষ শুরু হয় এবং জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তরমুজ কাটা শুরু হয়। বিক্রি চলে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত।
চাষি মো. আব্দুল আহাদ, আব্দুর নূর ও সানি আহমদ জানান, বিঘাপ্রতি জমিতে তরমুজ চাষ করতে তাদের প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। চার থেকে পাঁচ মাস ধরে চাষাবাদের পর এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, “প্রতিদিন সারীঘাট দক্ষিণ পাড় বাজারে তরমুজ নিয়ে আসি। স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরাও এখান থেকে তরমুজ কিনে নিচ্ছেন।”
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি বলেন, “এবার উপজেলায় ৪৬৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ২ থেকে ৫ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করার আশা করছেন চাষিরা। চাষাবাদ থেকে বিক্রি পর্যন্ত চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।”
গোয়াইনঘাটের তরমুজ এখন শুধু স্থানীয় বাজারে নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও পৌঁছে যাচ্ছে। রমজান মাসের আগে তরমুজের চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এবারের ভালো ফলন ও দাম নিয়ে চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।















