Dhaka ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

উত্তরায় র‌্যাব পরিচয়ে কোটি টাকার ডাকাতি | গ্রেফতার ৫ | টাকা ও গাড়ি উদ্ধার | ডিএমপি

ট্রেন্ডবিডিনিউজ রিপোর্ট
  • Update Time : ০৫:১০:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫
  • / 194

সংগৃহীত

ঢাকা মহানগরীর উত্তরা এলাকায় নগদ কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে র‌্যাব পরিচয়ে সংঘটিত এক কোটি আট লক্ষ ১১ হাজার টাকার দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও উত্তরা বিভাগ। ঘটনায় জড়িত ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২২ লক্ষ ১০ হাজার ৭৮০ টাকা নগদ অর্থ, একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস, র‌্যাব-পুলিশের নকল পোশাক ও সরঞ্জাম, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই এবং অন্যান্য আলামত। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্য এবং অপরজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট। পুলিশের দাবি, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরেই র‌্যাব ও পুলিশের ছদ্মবেশে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে আসছিল।

ঘটনাটি ঘটে ১৪ জুন ২০২৫, সকাল আনুমানিক ৮:৫৫ মিনিটে, যখন নগদ কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর আব্দুল খালেক নয়ন তার বাসা (উত্তরা ১২ নম্বর রোড, ৩৭ নম্বর বাড়ি) থেকে চারজন কর্মচারীসহ মোটরসাইকেলে করে চারটি ব্যাগে করে এক কোটি আট লক্ষ টাকা নিয়ে কোম্পানির অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে উত্তরা ১২ ও ১৩ নম্বর রোডের সংযোগস্থলে কালো রঙের একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস এসে তাদের গতিরোধ করে। মাইক্রোবাস থেকে র‌্যাব লেখা কালো কটি পরিহিত, মুখে কালো কাপড় বাঁধা ৬-৭ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি নেমে আসে। তারা কর্মচারীদের ধাওয়া করে টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তিনজনকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে হাত-চোখ বেঁধে মারধর করে। পরে তাদের তুরাগ থানার ১৭ নম্বর সেক্টরের বৃন্দাবন এলাকায় ফেলে রেখে টাকাসহ অফিসিয়াল ও ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি ডাকাতির মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ যৌথভাবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তে ডাকাতি ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রথমে মাইক্রোবাসটি সনাক্ত করা হয় এবং ১৮ জুন খিলগাঁও এলাকা থেকে গাড়িচালক মো. হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। তার হেফাজত থেকে নকল একটি নামফলক ও ৮,৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাদারটেক এলাকার স্বপন মিয়ার গ্যারেজ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হাইয়েস মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়। একই রাতে উত্তরা এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্য গোলাম মোস্তফা ওরফে শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় লুণ্ঠিত ১৩ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। এরপর আদাবর থানাধীন বায়তুল আমান হাউজিং এলাকা থেকে মো. ইমদাদুল শরীফকে গ্রেফতার করা হয়, যার কাছ থেকে পাওয়া যায় আরও ৮ লক্ষ ৪ হাজার ৭৮০ টাকা। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সবুজবাগ এলাকা থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট শেখ মো. জালাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়, যিনি নিজেকে ‘ক্যাপ্টেন জালাল’ পরিচয়ে পরিচিত করতেন। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৬৩ হাজার টাকা। জানা গেছে, তিনি লুণ্ঠিত ১২ লক্ষ টাকা তার নিজ নামীয় ব্যাংক একাউন্টে জমা করেন, যা জব্দের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ডাকাত চক্রের পঞ্চম সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে শিপনকেও একই রাতে বিমানবন্দর রেল স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে ধৃতদের কাছ থেকে র‌্যাব ও পুলিশের নকল আইডি কার্ড, লাঠি, সিগনাল লাইট, সেনাবাহিনীর লোগোযুক্ত মানিব্যাগ, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, চক্রের প্রধান মোস্তফা ওরফে শাহিন একজন বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্য, আর শেখ জালাল সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট হলেও র‌্যাব ও সেনা পরিচয়ে প্রতারণা করতেন। তারা ডাকাতির আগে দীর্ঘদিন ধরে ছদ্মবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অপরাধ করে আসছিল।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, এই ঘটনার পর থেকেই মামলার তদন্ত চলছে এবং এখনও যারা পলাতক রয়েছে তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া, লুণ্ঠিত সম্পদের বাকি অংশ উদ্ধারে এবং এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে মাঠে কাজ করছে একাধিক তদন্ত দল। পুলিশের এমন দ্রুত অভিযানে নাগরিকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশ ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ প্রশ্ন তুলছে নিরাপত্তার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে। পুলিশ বলছে, এই চক্রের অতীত অপরাধ ইতিহাস খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (DMP)

আপনার সোশ্যাল মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Cricket Update

উত্তরায় র‌্যাব পরিচয়ে কোটি টাকার ডাকাতি | গ্রেফতার ৫ | টাকা ও গাড়ি উদ্ধার | ডিএমপি

Update Time : ০৫:১০:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

ঢাকা মহানগরীর উত্তরা এলাকায় নগদ কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে র‌্যাব পরিচয়ে সংঘটিত এক কোটি আট লক্ষ ১১ হাজার টাকার দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও উত্তরা বিভাগ। ঘটনায় জড়িত ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২২ লক্ষ ১০ হাজার ৭৮০ টাকা নগদ অর্থ, একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস, র‌্যাব-পুলিশের নকল পোশাক ও সরঞ্জাম, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই এবং অন্যান্য আলামত। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্য এবং অপরজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট। পুলিশের দাবি, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরেই র‌্যাব ও পুলিশের ছদ্মবেশে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে আসছিল।

ঘটনাটি ঘটে ১৪ জুন ২০২৫, সকাল আনুমানিক ৮:৫৫ মিনিটে, যখন নগদ কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর আব্দুল খালেক নয়ন তার বাসা (উত্তরা ১২ নম্বর রোড, ৩৭ নম্বর বাড়ি) থেকে চারজন কর্মচারীসহ মোটরসাইকেলে করে চারটি ব্যাগে করে এক কোটি আট লক্ষ টাকা নিয়ে কোম্পানির অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে উত্তরা ১২ ও ১৩ নম্বর রোডের সংযোগস্থলে কালো রঙের একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস এসে তাদের গতিরোধ করে। মাইক্রোবাস থেকে র‌্যাব লেখা কালো কটি পরিহিত, মুখে কালো কাপড় বাঁধা ৬-৭ জন অস্ত্রধারী ব্যক্তি নেমে আসে। তারা কর্মচারীদের ধাওয়া করে টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তিনজনকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে হাত-চোখ বেঁধে মারধর করে। পরে তাদের তুরাগ থানার ১৭ নম্বর সেক্টরের বৃন্দাবন এলাকায় ফেলে রেখে টাকাসহ অফিসিয়াল ও ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি ডাকাতির মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ যৌথভাবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তে ডাকাতি ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রথমে মাইক্রোবাসটি সনাক্ত করা হয় এবং ১৮ জুন খিলগাঁও এলাকা থেকে গাড়িচালক মো. হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। তার হেফাজত থেকে নকল একটি নামফলক ও ৮,৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাদারটেক এলাকার স্বপন মিয়ার গ্যারেজ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হাইয়েস মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়। একই রাতে উত্তরা এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্য গোলাম মোস্তফা ওরফে শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় লুণ্ঠিত ১৩ লক্ষ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। এরপর আদাবর থানাধীন বায়তুল আমান হাউজিং এলাকা থেকে মো. ইমদাদুল শরীফকে গ্রেফতার করা হয়, যার কাছ থেকে পাওয়া যায় আরও ৮ লক্ষ ৪ হাজার ৭৮০ টাকা। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সবুজবাগ এলাকা থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট শেখ মো. জালাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়, যিনি নিজেকে ‘ক্যাপ্টেন জালাল’ পরিচয়ে পরিচিত করতেন। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৬৩ হাজার টাকা। জানা গেছে, তিনি লুণ্ঠিত ১২ লক্ষ টাকা তার নিজ নামীয় ব্যাংক একাউন্টে জমা করেন, যা জব্দের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ডাকাত চক্রের পঞ্চম সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে শিপনকেও একই রাতে বিমানবন্দর রেল স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে ধৃতদের কাছ থেকে র‌্যাব ও পুলিশের নকল আইডি কার্ড, লাঠি, সিগনাল লাইট, সেনাবাহিনীর লোগোযুক্ত মানিব্যাগ, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, চক্রের প্রধান মোস্তফা ওরফে শাহিন একজন বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্য, আর শেখ জালাল সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট হলেও র‌্যাব ও সেনা পরিচয়ে প্রতারণা করতেন। তারা ডাকাতির আগে দীর্ঘদিন ধরে ছদ্মবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অপরাধ করে আসছিল।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, এই ঘটনার পর থেকেই মামলার তদন্ত চলছে এবং এখনও যারা পলাতক রয়েছে তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া, লুণ্ঠিত সম্পদের বাকি অংশ উদ্ধারে এবং এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে মাঠে কাজ করছে একাধিক তদন্ত দল। পুলিশের এমন দ্রুত অভিযানে নাগরিকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশ ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ প্রশ্ন তুলছে নিরাপত্তার খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে। পুলিশ বলছে, এই চক্রের অতীত অপরাধ ইতিহাস খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (DMP)