Dhaka ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

প্যালেস্টাইন বিক্ষোভ প্রতিবাদে গ্রেপ্তার, দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন হান্না

ট্রেন্ডবিডিনিউজ ডেস্ক
  • Update Time : ১১:২৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫
  • / 109

সংগৃহীত ছবি

সিডনিতে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে পুলিশের হস্তক্ষেপ, মুখে গুরুতর আঘাত পেলেন হান্না থমাস

অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিক হান্না থমাস (৩৫) সিডনিতে ফিলিস্তিনপন্থী এক বিক্ষোভে অংশগ্রহণকালে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন এবং এই প্রক্রিয়ায় তিনি চোখে গুরুতর আঘাত পান। তাঁর ডান চোখে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত শুক্রবার নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিতে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে প্রায় ৫০-৬০ জন বিক্ষোভকারী প্রতিবাদে অংশ নেন। প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য যন্ত্রাংশ সরবরাহে জড়িত, বিশেষ করে F-35 যুদ্ধবিমান-এর উপকরণ তৈরি করে।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানায়, বিক্ষোভের আগে যথাযথ অনুমতির কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়নি, তাই সেটি “অননুমোদিত” বিক্ষোভ হিসেবে গণ্য হয়। পুলিশের “মুভ অন অর্ডার” অমান্য করায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার মধ্যে ছিলেন হান্না থমাস।

গ্রেপ্তারকালে পুলিশের বলপ্রয়োগে হান্না থমাস মুখে আঘাত পান এবং দ্রুত তাকে ব্যাংকস্টাউন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, তার ডান চোখ ফুলে গেছে ও রক্তাক্ত, যা দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কার ইঙ্গিত দেয়।

হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হান্না বলেন, “আমি শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিলাম, অথচ পুলিশ আমাকে এমনভাবে আঘাত করেছে, যাতে আমি হয়তো চিরতরে আমার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাতে যাচ্ছি।”

তিনি অস্ট্রেলিয়ার কঠোর “বিরোধী-বিক্ষোভ আইন”-এর কড়া সমালোচনা করেন এবং বলেন, এই ধরনের আইন পুলিশকে সহিংসতা চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে।

হান্না আরও বলেন, “আমার এই অভিজ্ঞতা ফিলিস্তিনিদের যন্ত্রণার পাশে কিছুই না, তাই আমি প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।”

অস্ট্রেলিয়ান গ্রিনস পার্টির সিনেটর মেহরিন ফারুকি এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, “পুলিশের আচরণ ভয়াবহ। হান্নার সুস্থতা এখন আমার প্রথম অগ্রাধিকার।”

নিউ সাউথ ওয়েলস গ্রিনস এমএলসি সু হিগিনসন ঘটনাটিকে “অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ” বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেন, বিক্ষোভ ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

তথ্যসূত্র নেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Palestine Chronicle-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে।

আপনার সোশ্যাল মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Cricket Update

প্যালেস্টাইন বিক্ষোভ প্রতিবাদে গ্রেপ্তার, দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন হান্না

Update Time : ১১:২৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫

সিডনিতে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে পুলিশের হস্তক্ষেপ, মুখে গুরুতর আঘাত পেলেন হান্না থমাস

অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিক হান্না থমাস (৩৫) সিডনিতে ফিলিস্তিনপন্থী এক বিক্ষোভে অংশগ্রহণকালে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন এবং এই প্রক্রিয়ায় তিনি চোখে গুরুতর আঘাত পান। তাঁর ডান চোখে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত শুক্রবার নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিতে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে প্রায় ৫০-৬০ জন বিক্ষোভকারী প্রতিবাদে অংশ নেন। প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য যন্ত্রাংশ সরবরাহে জড়িত, বিশেষ করে F-35 যুদ্ধবিমান-এর উপকরণ তৈরি করে।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানায়, বিক্ষোভের আগে যথাযথ অনুমতির কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়নি, তাই সেটি “অননুমোদিত” বিক্ষোভ হিসেবে গণ্য হয়। পুলিশের “মুভ অন অর্ডার” অমান্য করায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যার মধ্যে ছিলেন হান্না থমাস।

গ্রেপ্তারকালে পুলিশের বলপ্রয়োগে হান্না থমাস মুখে আঘাত পান এবং দ্রুত তাকে ব্যাংকস্টাউন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, তার ডান চোখ ফুলে গেছে ও রক্তাক্ত, যা দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কার ইঙ্গিত দেয়।

হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হান্না বলেন, “আমি শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছিলাম, অথচ পুলিশ আমাকে এমনভাবে আঘাত করেছে, যাতে আমি হয়তো চিরতরে আমার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাতে যাচ্ছি।”

তিনি অস্ট্রেলিয়ার কঠোর “বিরোধী-বিক্ষোভ আইন”-এর কড়া সমালোচনা করেন এবং বলেন, এই ধরনের আইন পুলিশকে সহিংসতা চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে।

হান্না আরও বলেন, “আমার এই অভিজ্ঞতা ফিলিস্তিনিদের যন্ত্রণার পাশে কিছুই না, তাই আমি প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।”

অস্ট্রেলিয়ান গ্রিনস পার্টির সিনেটর মেহরিন ফারুকি এই ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, “পুলিশের আচরণ ভয়াবহ। হান্নার সুস্থতা এখন আমার প্রথম অগ্রাধিকার।”

নিউ সাউথ ওয়েলস গ্রিনস এমএলসি সু হিগিনসন ঘটনাটিকে “অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ” বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেন, বিক্ষোভ ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

তথ্যসূত্র নেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Palestine Chronicle-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে।