Dhaka ০৯:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

জন্মনিবন্ধন ও প্রশাসনিক জটিলতা: প্রধান উপদেষ্টার কঠোর সমালোচনা

  • Update Time : ০৩:১০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 104

ঢাকা: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ার ত্রুটি ও জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “অনেক সিদ্ধান্ত ঢাকা থেকে নেওয়া হয়, তবে সেগুলো জেলা পর্যায়ে কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা অজানা। যেমন- জন্মনিবন্ধন, যার কোনও কার্যকর তত্ত্বাবধান নেই। নিয়ম থাকলেও এর বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মধ্যবয়সে বা পরবর্তী জীবনে পাসপোর্টসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের জন্য জন্মনিবন্ধন অত্যাবশ্যকীয় হয়ে ওঠে। অতীতে জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থা তেমন প্রচলিত ছিল না, তবে এখন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু দুর্নীতির কারণে অর্থ দিলে এটি সহজেই মেলে, অথচ বিনা খরচেও নাগরিকদের এটি পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত।”

ড. ইউনূস বলেন, “সরকারি ব্যবস্থাপনায় এই জটিলতা দূর করা সম্ভব। নাগরিকদের জন্মসনদ পেতে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়ার প্রমাণ জন্মসনদ, যা না থাকলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) মেলে না, আর এনআইডি না থাকলে পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব হয় না। রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবে উদ্যোগ তো নিতে হবে।”

পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। “পাসপোর্টের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন কেন লাগবে? এটি তো নাগরিক অধিকার। ইতোমধ্যে আইন পরিবর্তন করে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাতিল করা হয়েছে, কিন্তু এই তথ্য তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানো জরুরি। অপ্রয়োজনীয় হয়রানির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে,” বলেন তিনি।

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষায় আরও মনোযোগ দিতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য মাঠপর্যায়ে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে।”

প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, এবং প্রাথমিক শিক্ষা খাতের সংস্কারে সরকারের অঙ্গীকারের প্রমাণ বহন করে। এখন দেখার বিষয়, তার বক্তব্যের প্রতিফলন প্রশাসনিক কাঠামোতে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।

আপনার সোশ্যাল মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Cricket Update

জন্মনিবন্ধন ও প্রশাসনিক জটিলতা: প্রধান উপদেষ্টার কঠোর সমালোচনা

Update Time : ০৩:১০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ঢাকা: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়ার ত্রুটি ও জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “অনেক সিদ্ধান্ত ঢাকা থেকে নেওয়া হয়, তবে সেগুলো জেলা পর্যায়ে কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা অজানা। যেমন- জন্মনিবন্ধন, যার কোনও কার্যকর তত্ত্বাবধান নেই। নিয়ম থাকলেও এর বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মধ্যবয়সে বা পরবর্তী জীবনে পাসপোর্টসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের জন্য জন্মনিবন্ধন অত্যাবশ্যকীয় হয়ে ওঠে। অতীতে জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থা তেমন প্রচলিত ছিল না, তবে এখন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু দুর্নীতির কারণে অর্থ দিলে এটি সহজেই মেলে, অথচ বিনা খরচেও নাগরিকদের এটি পাওয়ার অধিকার থাকা উচিত।”

ড. ইউনূস বলেন, “সরকারি ব্যবস্থাপনায় এই জটিলতা দূর করা সম্ভব। নাগরিকদের জন্মসনদ পেতে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়ার প্রমাণ জন্মসনদ, যা না থাকলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) মেলে না, আর এনআইডি না থাকলে পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব হয় না। রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবে উদ্যোগ তো নিতে হবে।”

পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। “পাসপোর্টের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন কেন লাগবে? এটি তো নাগরিক অধিকার। ইতোমধ্যে আইন পরিবর্তন করে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাতিল করা হয়েছে, কিন্তু এই তথ্য তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছানো জরুরি। অপ্রয়োজনীয় হয়রানির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে,” বলেন তিনি।

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষায় আরও মনোযোগ দিতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য মাঠপর্যায়ে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে।”

প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, এবং প্রাথমিক শিক্ষা খাতের সংস্কারে সরকারের অঙ্গীকারের প্রমাণ বহন করে। এখন দেখার বিষয়, তার বক্তব্যের প্রতিফলন প্রশাসনিক কাঠামোতে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।