Dhaka ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

শাহবাগে শিক্ষার্থীদের ঢল: ২ জুলাইয়ের পদযাত্রা থেকে গণজোয়ারের সূচনা

ট্রেন্ডবিডিনিউজ ডেস্ক
  • Update Time : ০৯:৫০:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • / 165

এক বছর আগের এই দিনে রাজধানীর শাহবাগ মোড় যেন পরিণত হয়েছিলো শিক্ষার্থীদের জাগরণে। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে ঢাকার রাজপথে নামে হাজারো শিক্ষার্থী। সেখান থেকেই শুরু হয় এক গণজোয়ার, যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় একটি জাতীয় রাজনৈতিক মোড় ঘোরানো আন্দোলনে।

এই দিনটির স্মরণে, আজও শিক্ষার্থীরা শাহবাগে জড়ো হন। অনেকেই বলছেন, ২ জুলাই-ই ছিল শেখ হাসিনা প্রশাসনের পতনের ‘কাউন্টডাউন’ শুরু হওয়ার দিন।

জুলাইয়ের আগুন: কোটা থেকে গণঅভ্যুত্থান

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ শুরু হয়েছিল জুনের শেষ দিকে। তবে ১ জুলাই রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশের পর আন্দোলন নেয় বৃহৎ রূপ। ২ জুলাই, দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হয় ঐতিহাসিক গণপদযাত্রা, যা শাহবাগ মোড় পর্যন্ত গড়ায় এবং প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে আসে পুলিশ। তবে শিক্ষার্থীদের “ভুয়া ভুয়া” স্লোগানে বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেদিনকার দৃশ্য আজও স্মরণ করেন আন্দোলনকারীরা।

নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ

প্রথম সারির নেতৃত্বে ছিলেন তানজিনা তাম্মিম হাফসা। ‘জুলাই সমন্বয়ক’ হিসেবে হাফসা বলেন,

“আন্দোলনটা শুরু হয় ঈদের আগেই। আমরা পরিকল্পনা করছিলাম, কীভাবে সবার অংশগ্রহণ বাড়ানো যায়। ঈদের পরেই ঠিক করি—এটাই হবে আমাদের সময়। আন্দোলনের নাম, কাঠামো—সব কিছুই তখন নির্ধারিত হয়।”

ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে

২ জুলাইয়ের গণজাগরণ কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেমে থাকেনি। আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সাত কলেজসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। মূল শক্তি ছিল শিক্ষার্থীদের ঐক্য ও যোগাযোগের জোর।

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হাসিব আল জামান বলেন,

“ঈদের সময় থেকেই আমরা সারাদেশে যোগাযোগ করি। যেখানে আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুরু হয়েছিল, তাদের সাথে একীভূত হই। সিদ্ধান্ত ছিল—সবার যৌক্তিক দাবি নিয়ে আমরা একসাথে থাকবো।”

শিক্ষকদের সংহতি

সেদিন শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনও ছিল। পেনশন সংস্কারের দাবিতে শিক্ষকরা কলাভবন ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বন্ধ ছিল ক্লাস ও পরীক্ষা। এই শিক্ষক-শিক্ষার্থী একাত্মতা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।

রক্তাক্ত মোড় ও সরকারের কঠোরতা

প্রথম দিকে আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ এবং যৌক্তিক দাবিনির্ভর। শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি ছিল—মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, ৫৬% কোটা বাতিল। কিন্তু দাবি উপেক্ষা করে সরকার যে কঠোর দমনপন্থা নেয়, তাতেই পাল্টে যায় আন্দোলনের চরিত্র। শিক্ষার্থীদের ভাষায়, তখন থেকেই শুরু হয় “হাসিনা প্রশাসন” পতনের সময় গণনার।

‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন,

“আমরা একটা পূর্ণ গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছিলাম। কৌশলগতভাবে রাজু ভাস্কর্য, শাহবাগ—সব ছিল আমাদের পরিকল্পনায়। শিক্ষার্থীরা সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।”

উপসংহার: ইতিহাসের পুণঃআলোচনা

আজ ২ জুলাই, সেই ইতিহাস স্মরণ করছে পুরো প্রজন্ম। এই দিনটি শুধু একটি আন্দোলনের দিন নয়, বরং একটি নতুন রাজনৈতিক চেতনার সূচনালগ্ন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে এখন।

আপনার সোশ্যাল মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Cricket Update

শাহবাগে শিক্ষার্থীদের ঢল: ২ জুলাইয়ের পদযাত্রা থেকে গণজোয়ারের সূচনা

Update Time : ০৯:৫০:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

এক বছর আগের এই দিনে রাজধানীর শাহবাগ মোড় যেন পরিণত হয়েছিলো শিক্ষার্থীদের জাগরণে। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে ঢাকার রাজপথে নামে হাজারো শিক্ষার্থী। সেখান থেকেই শুরু হয় এক গণজোয়ার, যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় একটি জাতীয় রাজনৈতিক মোড় ঘোরানো আন্দোলনে।

এই দিনটির স্মরণে, আজও শিক্ষার্থীরা শাহবাগে জড়ো হন। অনেকেই বলছেন, ২ জুলাই-ই ছিল শেখ হাসিনা প্রশাসনের পতনের ‘কাউন্টডাউন’ শুরু হওয়ার দিন।

জুলাইয়ের আগুন: কোটা থেকে গণঅভ্যুত্থান

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ শুরু হয়েছিল জুনের শেষ দিকে। তবে ১ জুলাই রাজু ভাস্কর্যে সমাবেশের পর আন্দোলন নেয় বৃহৎ রূপ। ২ জুলাই, দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শুরু হয় ঐতিহাসিক গণপদযাত্রা, যা শাহবাগ মোড় পর্যন্ত গড়ায় এবং প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানে আসে পুলিশ। তবে শিক্ষার্থীদের “ভুয়া ভুয়া” স্লোগানে বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেদিনকার দৃশ্য আজও স্মরণ করেন আন্দোলনকারীরা।

নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ

প্রথম সারির নেতৃত্বে ছিলেন তানজিনা তাম্মিম হাফসা। ‘জুলাই সমন্বয়ক’ হিসেবে হাফসা বলেন,

“আন্দোলনটা শুরু হয় ঈদের আগেই। আমরা পরিকল্পনা করছিলাম, কীভাবে সবার অংশগ্রহণ বাড়ানো যায়। ঈদের পরেই ঠিক করি—এটাই হবে আমাদের সময়। আন্দোলনের নাম, কাঠামো—সব কিছুই তখন নির্ধারিত হয়।”

ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে

২ জুলাইয়ের গণজাগরণ কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেমে থাকেনি। আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সাত কলেজসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। মূল শক্তি ছিল শিক্ষার্থীদের ঐক্য ও যোগাযোগের জোর।

আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক হাসিব আল জামান বলেন,

“ঈদের সময় থেকেই আমরা সারাদেশে যোগাযোগ করি। যেখানে আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুরু হয়েছিল, তাদের সাথে একীভূত হই। সিদ্ধান্ত ছিল—সবার যৌক্তিক দাবি নিয়ে আমরা একসাথে থাকবো।”

শিক্ষকদের সংহতি

সেদিন শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনও ছিল। পেনশন সংস্কারের দাবিতে শিক্ষকরা কলাভবন ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বন্ধ ছিল ক্লাস ও পরীক্ষা। এই শিক্ষক-শিক্ষার্থী একাত্মতা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।

রক্তাক্ত মোড় ও সরকারের কঠোরতা

প্রথম দিকে আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ এবং যৌক্তিক দাবিনির্ভর। শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি ছিল—মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, ৫৬% কোটা বাতিল। কিন্তু দাবি উপেক্ষা করে সরকার যে কঠোর দমনপন্থা নেয়, তাতেই পাল্টে যায় আন্দোলনের চরিত্র। শিক্ষার্থীদের ভাষায়, তখন থেকেই শুরু হয় “হাসিনা প্রশাসন” পতনের সময় গণনার।

‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের’ সভাপতি রিফাত রশিদ বলেন,

“আমরা একটা পূর্ণ গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছিলাম। কৌশলগতভাবে রাজু ভাস্কর্য, শাহবাগ—সব ছিল আমাদের পরিকল্পনায়। শিক্ষার্থীরা সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।”

উপসংহার: ইতিহাসের পুণঃআলোচনা

আজ ২ জুলাই, সেই ইতিহাস স্মরণ করছে পুরো প্রজন্ম। এই দিনটি শুধু একটি আন্দোলনের দিন নয়, বরং একটি নতুন রাজনৈতিক চেতনার সূচনালগ্ন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে এখন।