ভারতের মণিপুরে ফের অশান্তি: ইন্টারনেট বন্ধ
- Update Time : ১১:৩৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫
- / 153
মণিপুরে আবারও ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। সম্প্রতি মেইতেই গোষ্ঠীর অন্যতম সংগঠন আরামবাই টেংগোল-এর এক শীর্ষ নেতা ও পাঁচ স্বেচ্ছাসেবকের গ্রেপ্তারির ঘটনায় রাজ্যে শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ ও অস্থিরতা। এর জেরে মণিপুরের ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম, থৌবল, বিষ্ণুপুর এবং কাকচিং – এই পাঁচটি জেলায় পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি কয়েকটি জেলায় জারি করা হয়েছে কার্ফিউ ও জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞা।
গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা হিংসা উসকে দিচ্ছিল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক প্রচার চালাচ্ছিল। প্রশাসনের মতে, এই ধরনের প্রচার আরও বড় হিংসার জন্ম দিতে পারে বলেই শনিবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেউ যদি এই নির্দেশ অমান্য করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বিক্ষোভ আরও বড় আকার নেয় যখন CBI-এর দুর্নীতি দমন শাখা রবিবার মণিপুরের ইম্ফল বিমানবন্দর থেকে মেইতেই নেতা আসেম কাননকে গ্রেপ্তার করে। এর প্রতিবাদে আরামবাই টেংগোল সংগঠন ১০ দিনের মণিপুর বনধের ডাক দেয়। বিক্ষোভ চলাকালীন দেখা যায়, কিছু মেইতেই সদস্য মাথায় পেট্রোল ঢেলে হুমকি দিচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
রবিবার দিনের মধ্যে বিক্ষোভে কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন বলে খবর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় আধাসেনা ও র্যাফ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের সেল নিক্ষেপ করে। এক্ষেত্রে একটি গ্যাসের সেল ফেটে ১৩ বছরের এক কিশোর আহত হয়, যা নিয়ে স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মেইতেই গোষ্ঠীগুলি কেন্দ্রের কাছে কুকি গোষ্ঠীর সঙ্গে করা সংঘর্ষবিরতি চুক্তি (Suspension of Operations – SoO) বাতিল করার দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, কুকিরা এই চুক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজ্যে লাগাতার নাশকতা চালাচ্ছে। যদিও কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও সরকারিভাবে মন্তব্য করেনি।
ইন্টারনেট ও গণজমায়েতে বিধিনিষেধের পাশাপাশি বিষ্ণুপুর জেলায় সম্পূর্ণ কার্ফিউ জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, সমাজবিরোধীরা ঘৃণামূলক বার্তা ও উসকানিমূলক ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল করে তুলতে পারে। সেই কারণেই এমন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে মণিপুরে শান্তি বজায় রাখা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্য প্রশাসন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং গোয়েন্দা বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।















