পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা বরখাস্ত | আদালতের রায় মেনে নিলেন থাই প্রধানমন্ত্রী
- Update Time : ০৩:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
- / 180
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা দেশটির সাংবিধানিক আদালতের দেওয়া সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বিনয়ের সঙ্গে মেনে নিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, নিজের কাজ ও উদ্দেশ্যকে ব্যাখ্যা করে আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করবেন। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আদালত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমি তা মেনে নিচ্ছি। তবে আমি ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করব।”
এই সিদ্ধান্ত এসেছে একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপের পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে পেতংতার্নকে কম্বোডিয়ার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হুন সেন–এর সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। এই ফোনালাপের ভিত্তিতে কিছু সেনেটর অভিযোগ করেন, এতে থাইল্যান্ডের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। আদালত ৭-২ ভোটে পেতংতার্নকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
তবে পেতংতার্ন স্পষ্ট করে জানান, ফোনালাপটি সম্পূর্ণভাবে দেশ ও সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে করা হয়েছিল। “আমার কোনো ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ছিল না। আমি শুধু চেয়েছিলাম রক্তপাত ও সংঘাত যেন না ঘটে। যদি কোনো প্রাণহানি হতো, আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারতাম না,” — বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যারা ফোনালাপটি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন, তারা বুঝতে পারবেন এটি কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র নয় বরং দায়িত্বশীল কূটনৈতিক যোগাযোগ ছিল। “আমি দেশের স্বার্থে ১০০% চেষ্টা করেছি এবং সেই চেষ্টার ব্যাখ্যা এখন আমি আদালতের সামনে তুলে ধরব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে আরও এক দফা অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার সূচনা করেছে। উল্লেখ্য, পেতংতার্ন হচ্ছেন থাইল্যান্ডের সাবেক ও বিতর্কিত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রার কন্যা, যার পরিবারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে।
সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও, পেতংতার্ন আইনি প্রক্রিয়ায় নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন এবং নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে তিনি কী ব্যাখ্যা দেন এবং থাই রাজনীতির পরবর্তী গতিপথ কী হয়— সেদিকে এখন নজর পুরো দেশের।














