‘জুলাই শহীদ’ স্বীকৃতি পাচ্ছেন রোহিঙ্গা যুবক নূর মোস্তফা
- Update Time : ০৮:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
- / 175
সরকারি স্বীকৃতির পথে এগিয়ে যাচ্ছেন ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনে শহীদ হওয়া রোহিঙ্গা বংশোদ্ভূত তরুণ নূর মোস্তফা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো এ কিশোরকে ‘জুলাই শহীদ’ ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বুধবার (২ জুলাই) বিকেলে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পোস্টটি পরে প্রেস সচিব শফিকুল আলম নিজেও শেয়ার করেন।
ক্যাবিনেট বৈঠকে প্রস্তাব
তথ্য উপদেষ্টার পোস্ট অনুযায়ী, গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে নূর মোস্তফার ‘জুলাই শহীদ’ স্বীকৃতির প্রস্তাব উত্থাপন করেন মাহফুজ আলম। বর্তমানে গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের অধীনে স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলেও জানা গেছে।
যেভাবে শহীদ হন নূর মোস্তফা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল। কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানার সামনে বৈষম্য ও স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন নূর মোস্তফা। স্থানীয়দের মতে, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের ছোড়া গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরদিন ৬ আগস্ট দুপুরে মৃত্যুবরণ করেন এই তরুণ।
একজন রোহিঙ্গা, একজন মুক্তির প্রতীক
নূর মোস্তফার জন্ম বাংলাদেশের কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকায়। তার বাবা শফিউল আলম মিয়ানমার থেকে পালিয়ে ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দারুস সালাম দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন মাত্র ১৭ বছর বয়সী নূর মোস্তফা।
স্থানীয়রা বলছেন, “নূর মোস্তফা শুধু রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি নয় — তিনি আমাদের অধিকার ও মর্যাদার লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।”
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায় জাতি
সরকারি স্বীকৃতি পেলে এটি হবে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী কোনো রোহিঙ্গা তরুণের প্রথম শহীদ মর্যাদা। এটি শুধু ইতিহাস নয়, ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।














