শবে বরাত: পুণ্য লাভের রাত, করণীয় ও বর্জনীয় কাজ
- Update Time : ০৯:৪৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / 237
ট্রেন্ডবিডিনিউজ ডেস্ক: শবে বরাত, যা ‘লাইলাতুল বারাআত’ নামে পরিচিত, ইসলাম ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত। প্রতি বছর শাবান মাসের ১৪ তারিখের রাতটি মুসলিমদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই রাতে মহান আল্লাহ বান্দাদের গুনাহ মাফ করেন, দোয়া কবুল করেন এবং অনুগ্রহ বর্ষণ করেন। তবে শবে বরাত উপলক্ষে আমাদের করণীয় ও বর্জনীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, যা জানা জরুরি।
শবে বরাতে করণীয় কাজসমূহ:
১. ফরজ ইবাদতের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া: শবে বরাতের বরকত পেতে হলে প্রথমে ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করা আবশ্যক। ইশা ও ফজরের নামাজ জামাতে পড়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
- নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদ: এই রাতে নফল নামাজ, বিশেষ করে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম উপায়।
- কোরআন তিলাওয়াত: কোরআন হলো মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ হেদায়েত। তাই শবে বরাতে বেশি করে কোরআন তিলাওয়াত করা উচিত।
- তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা: এই রাত আল্লাহর অশেষ রহমতের রাত। যারা আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করে, তাদের গুনাহ মাফ হয়। অতএব, নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে সৎ পথে চলার সংকল্প করা উচিত।
- দোয়া ও জিকির: ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কল্যাণ কামনায় বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর জিকির করা গুরুত্বপূর্ণ।
শবে বরাতে বর্জনীয় কাজসমূহ:
- বিদআত পরিহার করা: ইসলামের মূল শিক্ষায় নেই এমন নতুন আমল তৈরি করা বা প্রচলিত কুসংস্কার অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
- আতশবাজি ও পটকা ফোটানো: শবে বরাত ইবাদতের রাত, আনন্দ-উৎসবের রাত নয়। এই রাতে কোনো ধরনের আতশবাজি বা পটকা ফোটানো অনুচিত।
- খাবারকে আবশ্যক মনে করা: হালুয়া-রুটির আয়োজন করা জায়েজ হলেও এটিকে বাধ্যতামূলক মনে করা বা ইবাদতের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া ঠিক নয়।
- অপচয় ও অযথা আলোকসজ্জা: মসজিদ বা ঘরে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা অপচয় হিসেবে বিবেচিত হয়, যা ইসলাম নিরুৎসাহিত করে।
- ফজরের নামাজ কাজা করা: রাতভর ইবাদত করে ফজরের নামাজ কাজা করা শবে বরাতের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। ফরজ ইবাদত সর্বদা নফলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক ইসলামী চর্চায় শবে বরাতের তাৎপর্য বজায় রাখুন
শবে বরাত উপলক্ষে আমাদের উচিত বিশুদ্ধ ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা এবং বিদআত এড়িয়ে চলা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এ রাতের ইবাদতকে যথাযথভাবে পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসুন, আমরা এই বরকতময় রাতকে সঠিকভাবে পালন করে আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহ করি।















